
সূরা লাহাবের পরিচয় :
সূরার নাম : সূরা লাহাব (মাসাদ) | সুরার অর্থ : অগ্নিশিখা। |
সূরা নং : ১১১ | রুকু সংখ্যা : ১ |
আয়াত সংখ্যা : ৫ | সিজদার সংখ্যা : ০ |
অক্ষর সংখ্যা : ৮১ | শ্রেণী : মাক্কী। |
শব্দের সংখ্যা : ২৯ | পারার সংখ্যা : ৩০ |
সূরা লাহাব Sura lahab سورة المسد এর শানে নুযুল ও তাফসির
শাব্দিক বিশ্লেষণ :
সূরার আলোচ্য বিষয়
সূরা লাহাবের শানে নুযূল
সূরা লাহাবের তাফসীর :
আয়াত-১.
আবু লাহাব এর হাত দুটি ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।
আয়াত-২.
তার সম্পদ এবং যা সে উপার্জন করেছে। তা তার কোনো কাজে আসেনি। ধন-সম্পদ ও উপার্জন বলে তার সন্তান-সন্ততিকেও বোঝানো হয়েছে। কেননা সন্তান-সন্ততিকেও মানুষ উপার্জন বলে। আল্লাহ তা’আলা আবু লাহাবকে যেমন দিয়েছিলেন অগাধ ধন-সম্পদ, তেমনি দিয়েছিলেন অনেক সন্তান-সন্ততি। অকৃজ্ঞতার কারণে এ দুটি বস্তুই তার গর্ব, অহমিকা ও শাস্তির কারণ হয়ে যায়।
আয়াত-৩.
অচিরেই সে লেলিহান আগুনে জ্বলবে।
দুনিয়াতে থাকতেই আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন। সম্ভবত আল-কুরআনে তার আসল নাম উল্লেখ না করে উপনাম ‘আবু লাহাব’ সম্বোধন করে এ কথার দিকে ইশারা করা হয়েছে যে, তার নামের অর্থ যেমন আগুনের পিতা; ঠিক তেমনি সে চিরকাল লেলিহান আগুনেই বসবাস করবে। সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর জাহান্নামের শাস্তি খুবই ভয়াবহ। দুনিয়ার আগুনের চেয়েও জাহান্নামের আগুন অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী। জাহান্নামের কঠিন ও ভয়ংকর শাস্তির বর্ণনা আল-কুরআনের বহু স্থানে বর্ণিত হয়েছে।
আয়াত-৪.
এবং তার কাঠ বহনকারিণী স্ত্রীও।
আবু লাহাবের স্ত্রীর নাম ‘উম্মে জামীল’। আবু লাহাবের ন্যায় তার স্ত্রীও রাসূলুল্লাহ স.-এর প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ছিল। সে এ ব্যাপারে তার স্বামীকে সাহায্য করত। সে এত নীচ ও হীন প্রকৃতির লোক ছিল যে, জঙ্গল থেকে শুকনা কাঠ ও কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ডাল বহন করে এনে রাসূল স.-এর যাতায়াত পথে বিছিয়ে রাখত, যাতে নবীজি স. ও তাঁর নিকট গমনাগমনকারীগণ কাঠে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান এবং কাঁটাবিদ্ধ হয়ে কষ্ট পান। তাই তাকে কুরআনে । حَمَّالَۃَ الۡحَطَبِ শুষ্ক কাঠ বহনকারিণী উল্লেখ করা হয়েছে। তার এমন জঘন্য কর্মের জন্য আল-কুরআনে তার স্বামীর সাথে তাকেও অভিশপ্ত জাহান্নামী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অপর এক বর্ণনা মতে, আরবের বাক পদ্ধতিতে পশ্চাতে নিন্দাকারীকে حَمَّالَۃَ الۡحَطَبِ (খড়িবাহক) বলা হতো। খড়ি একত্রিত করে যেমন কেউ অগ্নি সংযোগের ব্যবস্থা করে, পশ্চাতে নিন্দাকার্যটিও তেমনি। এর মাধ্যমে নিন্দাকারী ব্যক্তিবর্গ ও পরিবারের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আবু লাহাবের স্ত্রী এ কাজে লিপ্ত ছিল। তাই তাকে খড়ি বহনকারিণী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়াত-৫.
তার গলায় পাকানো রশি বাঁধা থাকবে।
গলায় রশি বাঁধা থাকার ব্যাখ্যায় তাফসীরকারদের অভিমত হলো, এই মহিলা জাহান্নামে শিকল ও জিঞ্জির গলায় পেঁচানো অবস্থায় থাকবে। উল্লেখ্য যে, এই নারী রাসূলুল্লাহ স.-এর এত বেশি বিরুদ্ধাচরণ করছিল যে, সে বলে বেড়া তো আমার গলার অতি মূল্যবান এ হারটি মুহাম্মদের বিরোধিতায় ব্যয় করব।’ তাই জাহান্নামেও সে গলায় একটি হার তথা শিকল বয়ে বেড়াবে ।
নির্দেশনা
১. রাসূলুল্লাহ স.-এর বিরুদ্ধাচরণ ও তাঁর বিষোদ্গার করা হারাম। যে কেউ এমন নীচু ও জঘণ্য কাজে সম্পৃক্ত হবে আল্লাহ তাকে ভয়াবহ শাস্তি প্রদান করবেন।
২. রাসূল স.-এর দুশমন চিরস্থায়ী জাহান্নামে প্রবেশ করবে। হতভাগা সে ব্যক্তি দুনিয়াতেও পাপের প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে থাকবে।
৩. স্বামী খোদাদ্রোহী হলে কিংবা অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে স্ত্রী সে কাজে জড়িত হওয়া অপরাধ । বরং স্ত্রী সত্য সরল পথ অনুসরণ করে অপরাধ থেকে বেঁচে থাকবে। স্বামীকে সঠিক পথে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা করবে। তাকে সঠিক পথে নিয়ে আসা সম্ভব না হলে, প্রয়োজনে স্বামীর সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে। বস্তুত একজন মুমিন নারী কখনোই কোনো খোদাদ্রোহীর সাথে থাকতে পারে না। নবীবিদ্বেষ কুফরী। নবীর বিরুদ্ধাচরণ কেবল একজন কাফেরই করতে পারে।
আরো পড়ুন :
১১৩. সূরা ফালাক Sura Falak سورة الفلق এর তাফসির ও শানে নূযুল
১১২.সূরা ইখলাস سورة الاخلاص Sura Ikhlas এর তাফসির ও শানে নুযূল