১১০.সূরা নাসর سورة النصر sura Nasor এর তাফসির ও শানে নুযূল

সূরা নাসর,سورة النصر, سوره النصر, سورة النصر مكتوبة,সূরা নাসর বাংলা উচ্চারণ, সূরা নাসর এর শানে নুযুল, সূরা নাসর এর ফজিলত, সূরা নাসরের তাফসীর, সূরা নাসর এর অর্থ, সূরা নাসর আরবি, সূরা নাসর কোথায় অবতীর্ণ হয়, সূরা নাসর এর অর্থ, সূরা নাসর এর দারস, sura Nasor,sura Nasor bangla,sura nasr

সূরার পরিচয় :

সূরার নাম :সূরা নাসর (তাওদী)সুরার অর্থ : সাহায্য করা।
সূরা নং : ১১০রুকু সংখ্যা : ১
আয়াত সংখ্যা : ৩সিজদার সংখ্যা : ০
শব্দ সংখ্যা : ১৯শ্রেণি : মাদানী
অক্ষর সংখ্যা : ৭৯পারার সংখ্যা : ৩০

সূরা নাসর سورة النصر sura Nasor এর তাফসির ও শানে নুযূল

بسم الله الرحمن الرحيم

শুরু করছি আল্লাহর নামে; যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু।
(١). اِذَا جَآءَ نَصۡرُ اللّٰهِ وَ الۡفَتۡحُ

(১) যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে;
(٢)- وَ رَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اَفۡوَاجًا

(২) এবং আপনি মানুষকে দেখবেন দলে দলে আল্লাহর ধর্মে প্রবেশ করছে।
(٣).- فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَ اسۡتَغۡفِرۡهُ اِنَّهٗ کَانَ تَوَّابًا

(৩) তখন আপনি প্রশংসার সাথে আপনার রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তার কাছে ক্ষমা চান। নিশ্চয়ই তিনি বড় ক্ষমাশীল।

শাব্দিক বিশ্লেষণ

اِذَا جَآءَ : (যখন আসবে), অতীতকালীন ক্রিয়া, প্রথম পুরুষ, একবচন, পুংলিঙ্গ। শুরুতে اِذَا সংযোজক অব্যয় আসার কারণে ভবিষ্যৎমূলক অর্থ হয়েছে।

نَصۡرُ : (সাহায্য, সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা), বিশেষ্য, النصر ক্রিয়ামূল হিসেবে অর্থ হবে, সাহায্য করা, সমর্থন করা, পৃষ্ঠপোষকতা করা, সহায়তা করা ইত্যাদি।

الۡفَتۡحُ : (বিজয়, সফলতা, ভিক্টরি), ক্রিয়ামূল, অর্থ হলো খোলা, প্রকাশ করা, উন্মুক্ত করা, শুরু করা, জয় করা ইত্যাদি।

یَدۡخُلُوۡنَ : (তারা প্রবেশ করবে), ভবিষ্যৎকাল, ক্রিয়া, প্রথম পুরুষ, বহুবচন, পুংলিঙ্গ । الدخول ক্রিয়ামূল, অর্থ হলো প্রবেশ করা, অনুপ্রবেশ করা, ঢোকা, অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আগমন করা, ভর্তি হওয়া, যোগদান করা ইত্যাদি।

اَفۡوَاجًا : (দলে দলে), বিশেষ্য, একবচন فوخ (দল, বাহিনী), এর বহুবচন افواج ।

فَسَبِّحۡ : (আপনি তাসবীহ পাঠ করুন), আদেশ/অনুরোধসূচক ক্রিয়া, একবচন, পুংলিঙ্গ । (التسبيح) ক্রিয়ামূল, অর্থ হলো পবিত্রতা বর্ণনা করা, প্রশংসা করা, তাসবীহ পাঠ করা, মহিমাকীর্তন করা ইত্যাদি।

اسۡتَغۡفِرۡهُ : (আপনি ক্ষমা প্রার্থনা করুন), আদেশ/অনুরোধসূচক ক্রিয়া, একবচন, পুংলিঙ্গ।

تَوَّابًا : (অধিক তাওবা কবুলকারী), تَوبًا ক্রিয়ামূলের অর্থ হলো তাওবা করা, অনুশোচনা করা, অনুতপ্ত হওয়া, প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা ইত্যাদি।


আলোচ্য বিষয়

সূরা নাসরে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি ও বিজয়ের ওপর রাসূলুল্লাহ স.-এর প্রতি আল্লাহর পবিত্রতা ও গুণ বর্ণনা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা ও পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আদেশ বিধৃত হয়েছে।

সূরা নাসর এর শানে নুযুল ও নামকরণ

সর্বসম্মতিক্রমে সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ। এই সূরায় মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করার সুখবর প্রদান করা হয়েছে। মুসলমানদের বিজয়ের ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে। মক্কা বিজয় এর অন্যতম। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে নুসরত ও সহযোগিতার বর্ণনা হয়েছে। তাই এর নাম সূরা আন নাসর। এই সূরায় রসূলুল্লাহ স.-এর ওফাতের নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত আছে তাই এর একটি নাম ‘তাওদী’ (বিদায়) ও আছে ।

সূরা নাসরের সংক্ষিপ্ত তাফসীর

আয়াত-১. ২.
(১) যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে; (২) এবং আপনি মানুষকে দেখবেন দলে দলে আল্লাহর ধর্মে প্রবেশ করছে। নির্ভরযোগ্য মতানুসারে এই সূরায় আলোচিত বিজয় বলে মক্কা বিজয় বোঝানো হয়েছে। মক্কা বিজয়ের দিকে অধিকাংশ গোত্রের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। অনেক গোত্র ইসলামের সৌন্দর্যে মোহিত হলেও মক্কার মুশরিকদের কারণে ইসলাম গ্রহণ করতে সাহস পায়নি। কিন্তু যখন এই মক্কা ইসলামের ছায়াতলে আসে তখন আরব উপদ্বীপের গোত্রগুলো দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। ইসলাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ামেন থেকে সাতশত লোক ইসলাম গ্রহণ করে পথিমধ্যে আযান দিতে দিতে ও কুরআন পাঠ করতে করতে মদীনায় উপস্থিত হয়। সাধারণ আরবরাও এমনিভাবে দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করে।

আয়াত-৩.
(৩) তখন আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন। দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা এবং আল্লাহর নবুওয়াত রিসালত তথা খিলাফতের যে দায়িত্ব আপনার ওপর অর্পিত ছিল, তা পূর্ণতা লাভ করেছে। তাই এখন আপনি আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিন। অতএব আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ করুন। আগের তুলনায় তাসবীহ, তাহলীল, আল্লাহর গুণকীর্তন ও তাওবা বৃদ্ধি করুন। আল্লাহ আপনাকে যে সাহায্য করেছেন এবং বিজয় দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করুন।

উল্লেখ্য যে, উল্লিখিত আয়াতে নবীজি স.-কে তাওবা করার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা এ জন্য নয় যে, তিনি কোনো অপরাধ বা গুনাহ করেছেন বরং এ জন্য যে, তার মাধ্যমে উম্মতগণ তাওবার পদ্ধতি শিখবে। মৃত্যু নিকটবর্তী হলে বেশি বেশি পরিমাণে তাসবীহ ও ইস্তিগফার করা উচিত। আর তা ছাড়া তাওবা করা বান্দাদের, বিশেষত তাঁর প্রিয় হাবীবের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি হয়। আয়েশা রা. বলেন, এই সূরা অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ স. প্রত্যেক নামাযের পর এই দোয়া পাঠ করতেন-سبحانك ربنا ويحميك اللهم اغفرلي (সহীহ বুখারী-৪৯৬৭)

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, এই সূরা অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ স. আপ্রাণ চেষ্টা সহকারে ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। ফলে তাঁর পা দুটি ফুলে যেত। (কুরতুবী)

নির্দেশনা

১. এ সূরায় রাসূলুল্লাহ স.-এর রিসালতের দায়িত্ব পূর্ণতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি অচিরেই ইহকালীন জীবন শেষ করে অপার জগতে পাড়ি দেবেন তার ইঙ্গিত রয়েছে

২. তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং সর্বদা তাওবা ইস্তিগফারের মধ্যে রত থাকা উচিত। বিশেষ করে যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে, মৃত্যু নিকটে এসে পড়েছে তাদের জন্য আরো উত্তমভাবে আল্লাহমুখী হওয়া উচিত।

ট্যাগ সমূহ : সূরা নাসর,سورة النصر, سوره النصر, سورة النصر مكتوبة,সূরা নাসর বাংলা উচ্চারণ, সূরা নাসর এর শানে নুযুল, সূরা নাসর এর ফজিলত, সূরা নাসরের তাফসীর, সূরা নাসর এর অর্থ, সূরা নাসর আরবি, সূরা নাসর কোথায় অবতীর্ণ হয়, সূরা নাসর এর অর্থ, সূরা নাসর এর দারস, sura Nasor,sura Nasor bangla,sura nasr,سورة النصر, سوره النصر, سورة النصر مكتوبة,

আরো পড়ুন :

১১১. সূরা লাহাব Sura lahab سورة المسد এর তাফসির ও শানে নুযুল

১১২.সূরা ইখলাস سورة الاخلاص Sura Ikhlas এর তাফসির ও শানে নুযূল

১১৩. সূরা ফালাক Sura Falak سورة الفلق এর তাফসির ও শানে নূযুল

১১৪. সূরা নাস এর তাফীসর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top