৯৮.সূরা বাইয়্যিনাহ سورة البينة Surah Bayyinah এর তাফসির ও শানে নুযুল

 সূরা, সূরা বাইয়্যিনাহ,سورة البينة, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা অর্থ, সূরা বাইয়্যিনাহ ফজিলত, সূরা বাইয়্যিনাহ আয়াত ৭, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা উচ্চারণ, সূরা বাইয়্যিনাহ এর তাফসির, সূরা বাইয়্যিনাহ অর্থ, সূরা বাইয়্যিনাহ আয়াত ৬, সূরা বাইয়্যিনাহ এর শানে নুযুল, সূরা বাইয়্যিনাহ এর অক্ষর সংখ্যা, সূরা বাইয়্যিনাহ শব্দ সংখ্যা, সূরা বাইয়্যিনাহ তাফসির, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা উচ্চারণ সহ, সূরা বাইয়্যিনাহ এর অনুবাদ, surah baiyinah, sura bayyinah, surah bayyinah ayat 5, surah bayyinah ayat 1, surah bayyinah ayat 6, surah bayyinah translation, surah bayyinah full, surah bayyinah bangla tafsir,سوره البينه,سورة البينه,سورة البينة مكتوبة, ৯৮ নং সূরা,
সূরা বাইয়্যিনাহ এর তাফসির

সূরার পরিচয় :

সূরার নাম : সূরা বাইয়্যিনাহসূরার অর্থ : সুস্পষ্ট প্রমাণ।
সূরা নং : ৯৮সিজদা সংখ্যা : ০
আয়াত সংখ্যা : ৮রুকু সংখ্যা : ১
শব্দ সংখ্যা : ৯৪পারার সংখ্যা : ৩০
অক্ষর সংখ্যা : ৩৯৪শ্রেণী : মাদানী

সূরা বাইয়্যিনাহ سورة البينة Surah Bayyinah এর তাফসির ও শানে নুযুল


بسم الله الرحمن الرحيم

শুরু করছি আল্লাহ তা’আলার নামে; যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

لَمْ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ من أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ -(١)

(১) আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল, তারা (সত্য গ্রহণে) বিরত হয়নি যতক্ষণ না আসে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ

(٢)- رَسُولٌ مِّنَ ٱللَّهِ يَتْلُوا۟ صُحُفًا مُّطَهَّرَةً

(২) অর্থাৎ, আল্লাহর একজন রাসূল যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা;

(٣)- فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ

(৩) যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু ।

(٤)- وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّا من بَعْدِ ما جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ

(৪) অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই তা হয়েছে।

وَمَآ أُمِرُوٓا۟ إِلَّا لِيَعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلْقَيِّمَةِ -(٥)

(৫) তাদেরকে এ ছাড়া কোনো নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং নামায কায়েম করবে।

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ من أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ فى نَارِ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ ٱلْبَرِيَّةِ -(٦)

(৬) নিশ্চয়ই আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে।

(٧)- إِنَّ ٱلَّذِينَ امَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ

(৭) নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

جَزَآؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِى من تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا رَّضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ رَبَّهُ -(٨)
ۥ
(৮) তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল।

শাব্দিক বিশ্লেষণ

لَمْ يَكُنِ : শব্দটির মূল হলো كينونة (হওয়া, ঘটা, আছে, ছিল) আর يَكُنِ (হবে) ক্রিয়া, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, একবচন । পূর্বে ক্রিয়া-বিশেষণ لم (না) لَمْ يَكُنِ অর্থ: তারা হবে না।

كَفَرُوا۟ : শব্দটির মূল হলো كفر (কুফরী করা, অবিশ্বাস করা, অকৃতজ্ঞ হওয়া) আর كَفَرُوا۟ (তারা কুফরী করেছে) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, বহুবচন। পূর্বে রয়েছে সংযোজক সর্বনাম الذين (তারা, যারা)। ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ অর্থ: যারা কুফরী করেছে।

أَهْلِ : শব্দটি বিশেষ্য, একবচন। বহুবচন اهلون ও اهالى(সম্প্রদায়, পরিবার-পরিজন, অধিকারী-অধিবাসী)।

ٱلْكِتَٰبِ : শব্দটি বিশেষ্য, একবচন, বহুবচন হলো كتب (বই, কিতাব, লেখনী) পূর্বে ال নির্দিষ্ট বস্তু বা বিষয় বোঝানোর জন্য আসছে এবং শব্দটি اهل এর মুযাফ ইলাইহি হওয়ায় مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ এর অর্থ: আহলে কিতাব বা কিতাবী সম্প্রদায় হতে।

ٱلْمُشْرِكِينَ : বিশেষ্য, বহুবচন (অর্থ: মুশরিক বা শরীককারী) ال নির্দিষ্ট বিষয় বোঝাতে এসেছে। ٱلْمُشْرِكِينَ অর্থ: মুশরিক। مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ অর্থঃ কিতাবী এবং মুশরিক সম্প্রদায় হতে।

تَأْتِيَهُمُ : শব্দটির মূল হলো اتيان (আসা, উপস্থিত হওয়া, উপস্থাপন করা)। আর تاتى(সে আসবে) ক্রিয়া ভবিষ্যৎকাল, প্রথম পুরুষ, স্ত্রীলিঙ্গ, একবচন। পূর্বে সম্বন্ধসূচক অব্যয় حتى (পর্যন্ত, তখন পর্যন্ত) এবং শেষে কর্ম হিসেবে সংযুক্ত সর্বনাম هم (তাদের) تَأْتِيَهُمُ যুক্ত হওয়ায় অর্থ হবে সে তাদের নিকট আসবে।

ٱلْبَيِّنَةُ : বিশেষ্য, একবচন। বহুবচন البينات (প্রমাণ, সুস্পষ্ট দলিল নিদিষ্ট অর্থ বোঝাতে ال ব্যবহার হয়েছে। ٱلْبَيِّنَةُ অর্থ: সুস্পষ্ট প্রমাণ।

يَتْلُوا۟ : শব্দটির মূল হলো تلاوة (তিলাওয়াত করা) আর সে (তিলওয়াত করে) ক্রিয়া, বর্তমানকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, বহুবচন।

صُحُفًا: বিশেষ্য, বহুবচন। একবচন হলো صحيفة (কিতাব, গ্রন্থ, সহীফা, আমলনামা) মানুষের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ আসমান থেকে যে ছোট কিতাব নাযিল করেছিলেন, সেটাকেই সহীফা বলে ।

مُّطَهَّرَةً : বিশেষ্য, একবচন, স্ত্রীলিঙ্গ। (পবিত্র, পরিচ্ছন্ন) শব্দটির মূল হলো تطهير (পবিত্র করা, পরিচ্ছন্ন রাখা)

تَفَرَّقَ : শব্দটির মূল হলো تَفَرَّقَ (আলাদা হওয়া, বিভক্ত হওয়া, ফেটে ভাগ হয়ে যাওয়া) আর تَفَرَّقَ (সে বিভক্ত হয়েছিল) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, একবচন, পুংলিঙ্গ । পূর্বে ক্রিয়া-বিশেষণ ما (না) আসায় مَا تَفَرَّقَ অর্থ: সে বিভক্ত হয়নি।

أُوتُوا۟: শব্দটির মূল হলো ايتاء (দান করা, দেওয়া, সরবরাহ করা, উপস্থাপন করা) আর أُوتُوا۟ (দেওয়া হয়েছে) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, বহুবচন, পুংলিঙ্গ, কর্মবাচ্যরূপ। أُوتُوا۟ পূর্বে আছে সংযোজক সর্বনাম ٱلَّذِينَ (যাদেরকে)। অর্থ: ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ যাদেরকে দেওয়া হয়েছিল।

مَا جَآءَتْهُمُ : শব্দটির মূল, مجيى (আসা, পৌছানো, বর্ণিত হওয়া) আর جاءت (সে এসেছিল) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, স্ত্রীলিঙ্গ, একবচন। শেষে কর্ম হিসেবে সংযুক্ত সর্বনাম (তাদের), শুরুতে রয়েছে সংযোজক সর্বনাম مَا (যা কিছু)। مَا جَآءَتْهُمُ অর্থ: যা কিছু তাদের নিকট এসেছে।

أُمِرُوٓا۟ : শব্দটির মূল হলো امر (আদেশ করা, হুকুম বা নির্দেশ দেওয়া) আর। أُمِرُوٓا۟ (নির্দেশ দেওয়া হয়েছে) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, বহুবচন, পুংলিঙ্গ, কর্মবাচ্য রূপ। পূর্বে ক্রিয়া-বিশেষণ ما (না) مَا أُمِرُوٓا۟ অর্থ: তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

لِيَعْبُدُوا۟ : শব্দটির মূল হলো عبادة (ইবাদত করা, আনুগত্য করা, উপাসনা করা) يَعْبُدُوا۟ (তারা ইবাদত করে) ক্রিয়া, ভবিষ্যৎকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, বহুবচন। পূর্বে সংযোজক অব্যয় ل (যাতে, যে কারণে) এর পূর্বে আছে সংযোজক অব্যয় الا (ব্যতীত শেষে কর্ম হিসেবে إِلَّا لِيَعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ এর অর্থ: আল্লাহর ইবাদত করা ব্যতীত।

مُخْلِصِينَ : (আন্তরিক ও নিষ্ঠা) বিশেষ্য, বহুবচন, একবচন হলো مخلص (যিনি তার বিশ্বাসে আন্তরিক) এর মূল হলো اخلاص(আন্তরিক হওয়া, খাঁটি হওয়া, বিশুদ্ধ হওয়া)

ٱلَّذِينَ : (আনুগত্য) শব্দটি বিশেষ্য, একবচন। বহুবচন اديان দ্বীন শব্দটি ধর্ম, আনুগত্য, একটি ধর্মের প্রতি বিশ্বাস, প্রতিদান দেওয়া ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। ٱلَّذِينَ শুরুতে ال নির্দিষ্ট বিষয় বস্তু বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত।

يُقِيمُوا۟ : শব্দটির মূল হলো اقامة (প্রতিষ্ঠা করা, কায়েম করা, দাঁড় করানো) আর يُقِيمُوا۟ (তারা কায়েম করে) ক্রিয়া, ভবিষ্যৎকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, বহুবচন।

أُو۟لَٰٓئِكَ شَرُّ : (ওরাই নিকৃষ্ট) شَرُّ বিশেষ্য (মন্দ, খারাপ, নিকৃষ্ট) পূর্বে নির্দেশক সর্বনাম أُو۟لَٰٓئِكَ (ওই সব, ওরাই)।

امَنُوا۟ : শব্দটির মূল হলো ايمان (ঈমান আনা, বিশ্বাস করা, নিশ্চিন্ত করা) আর امَنُوا۟ (তারা ঈমান এনেছে)। ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, বহুবচন। পূর্বে ক্রিয়া-বিশেষণ ان (নিশ্চয়ই) এবং সংযোজক সর্বনাম الذين (যারা)। إِنَّ ٱلَّذِينَ امَنُوا۟ নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে।

عَمِلُوا۟ : শব্দটির মূল হলো عمل (কাজ করা, আমল করা, তৈরি করা, কোনো কিছু করা) عَمِلُوا۟ (তারা আমল করেছে) । ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, বহুবচন।

تَجْرِى : শব্দটির মূল হলো جرى (প্রবাহিত হওয়া, চলা) আর تَجْرِى (প্রবাহিত হতে থাকবে) ক্রিয়া, বর্তমানকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, একবচন।

رضِى : শব্দটির মূল হলো رضى (সন্তুষ্ট হওয়া, রাজি হওয়া) رضِىَ (তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, একবচন।

ذَٰلِكَ لِمَنْ : এটা (তার জন্য যে) সম্বন্ধসূচক অব্যয় ل (জন্য) এবং সংযোজক সর্বনাম من (তার, যার) এর মিলিত রূপ لِمَنْ পূর্বে রয়েছে নির্দেশক সর্বনাম ذَٰلِكَ

خَشِىَ : শব্দটির মূল হলো خشى, خشية (ভয় করা, ভয় পাওয়া, আশঙ্কা করা) আর خَشِىَ (সে ভয় করে) ক্রিয়া, অতীতকাল, প্রথম পুরুষ, পুংলিঙ্গ, একবচন।

সূরার আলোচ্য বিষয়

আলোচ্য সূরা বাইয়্যিনাহতে প্রথমেই রাসূল পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আহলে কিতাবদের গোমরাহীর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াতের পথ দেখাননি বলেই যে তারা বিভ্রান্ত হয়ে গেছে, তা নয়। বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক পথের নির্দেশ পাওয়ার পরই তারা বিভ্রান্ত হয়েছে। কাজেই তাদের গোমরাহীর জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। সূরার শেষে বলা হয়েছে, যারা ঈমান এনে নেক আমলের পথ অবলম্বন করবে তারা চিরকাল জান্নাতে থাকবে। পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে না এবং রাসূলুল্লাহ স.-কে অস্বীকার করবে, তারা নিকৃষ্টতম জাতি ।

সূরা বাইয়্যিনাহ এর শানে নুযুল

রাসূলুল্লাহ স.-এর আগমনের পূর্বে ইহুদী-নাসারারা আল্লাহ তা’আলার নিকট এই বলে প্রার্থনা করত যদি আমাদের জীবদ্দশায় আখেরী নবীর আগমন ঘটে তবে আমরা সর্বপ্রথম তাঁর প্রতি ঈমান আনব। কিন্তু তাঁর নবুওয়াত লাভ করার পর মাত্র কয়েকজন ব্যতীত কেউই ঈমান আনেনি। তাদের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা’আলা এই সূরা অবতীর্ণ করেন। (মাআলিম)

সূরা বাইয়্যিনাহ এর তাফসির

আয়াত-১.
রাসূলুল্লাহ স.-এর আগমনের পূর্বে ইহুদী-নাসারা এবং মুশরিকদের মনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ তা’আলা বলেন, যাদের কাছে আসমানী কোনো কিতাব না থাকায় অগ্নিপূজা, মূর্তিপূজা এবং কুফরী থেকে কখনো পৃথক হতে চাচ্ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে।

আয়াত-২.
এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল এসে যতক্ষণ না পবিত্র কুরআন তাদের সামনে তিলওয়াত করেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান গ্রহণ করবে না।

আয়াত-৩.
যাতে আছে সঠিক বিধান। যার জ্ঞান সম্পূর্ণ সত্য এবং সকলের জন্য যথার্থ হয়। এই কথার অর্থ হলো, কাফেরদের কুফরী এতটাই মজবুত যে একজন রাসূলের আগমনের আসমানী কিতাব ছাড়া তাদের হেদায়াত পাওয়া খুবই কঠিন।

আয়াত-৪.
তারপর যখন তাদের কাছে একজন রাসূল স. এবং কুরআনের আগমন ঘটল তখন তারা (কিতাবীরা) বিদ্বেষবশত রাসূল স. ও কুরআনের বিরোধিতা করতে শুরু করল এবং তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। একদল বিরুদ্ধাচরণ করেছে। আর একটি দল ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে পথ চলেছে এবং ঈমানের ওপর অটল থেকেছে। অথচ দরকার ছিল, যে নবীর প্রতীক্ষায় তারা ছিল, তিনি আগমনের সাথে সাথেই সকলে একসাথে তাঁর প্রতি ঈমান আনা।

আয়াত-৫.
অথচ হযরত ইবরাহিম আ.-এর শরীয়তের মতো সর্বদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে একমাত্র আল্লাহর জন্য নামায পড়া, যাকাত দেওয়া ও একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করার দরকার ছিল। আর রাসূল স. হযরত ইবরাহিম আ.-এর ধর্মেরই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তার পরও তারা কেন মুখ ফিরিয়ে নিল, অস্বীকার করল আল্লাহই তা ভালো জানেন।

আয়াত-৬.
নিঃসন্দেহে আহলে কিতাব ও মুশরিক-কাফেররা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। সেখান থেকে কখনো তারা মুক্তি পাবে না। কারণ সৃষ্টির মধ্যে তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব । ইমাম রাযী রহ. লেখেন, আলোচ্য আয়াতে কাফের বলে দুই শ্রেণির ব্যক্তি উদ্দেশ্য-

১. আহলে কিতাব তথা ইহুদী-নাসারাদের মধ্যে যারা কাফের রয়েছে, কেননা তারা হযরত ওযায়ের আ. এবং হযরত ঈসা আ.-কে আল্লাহর পুত্র বলে ধারণা করে।

২. মুশরিক, যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে মূর্তিপূজা করে। আলোচ্য আয়াতে এই উভয় প্রকার লোককেই কাফের বলা হয়েছে। আর বলা হয়েছে তারা চিরদিন জাহান্নামে থাকবে।


আয়াত-৭.
নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহ তা’আলা, সমস্ত নবী-রাসূল এবং আসমানী কিতাবসমূহের ওপর ঈমান এনেছে। সাথে সাথে কিতাবের বর্ণিত বিধান অনুপাতে নেক আমল করেছে সৃষ্টিজগতের মধ্যে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি।

আয়াত-৮.
এই আয়াতে জান্নাতিদের সর্ববৃহৎ নিয়ামত আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেনই, বান্দাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হবে। এর অর্থ হলো, বান্দার কোনো চাওয়া-পাওয়া অপূর্ণ থাকবে না। যেমন-জান্নাতে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট পাবে তাদের প্রতিদান হিসেবে অবস্থানের জন্য এমন ” বাগানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত হয়। এই নিয়ামত তাদের জন্যই, যারা প্রকৃত অর্থে আল্লাহকে ভয় করে।

নির্দেশনা

১. ইসলামের যেকোনো বিধান কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তার প্রতিদান হবে খুবই নিকৃষ্ট।

২. যে ঈমান গ্রহণ করে ইসলামের বিধি-বিধানগুলো খুব দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে তাহলে তার প্রতিদান হবে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি এবং চিরস্থায়ী জান্নাত ।

৩. শরীয়তের ফরয বিধানগুলো পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিধানগুলো বর্জন করা এবং কথায় ও কাজে ঈমান মজবুত রাখার মাধ্যমে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল স.-এর আনুগত্য প্রকাশ করার নামই তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়।

আরো পড়ুন :

৯৯.সূরা যিলযাল سورة الزلزل Sura Jiljal এর তাফসির ও শানে নুযুল

১০০.সূরা আদিয়াত سورة العاديات Sura Adiyat এর তাফসীর ও শানে নুযুল

ট্যাগ সমূহ : সূরা বাইয়্যিনাহ,سورة البينة, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা অর্থ, সূরা বাইয়্যিনাহ ফজিলত, সূরা বাইয়্যিনাহ আয়াত ৭, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা উচ্চারণ, সূরা বাইয়্যিনাহ এর তাফসির, সূরা বাইয়্যিনাহ অর্থ, সূরা বাইয়্যিনাহ আয়াত ৬, সূরা বাইয়্যিনাহ এর শানে নুযুল, সূরা বাইয়্যিনাহ এর অক্ষর সংখ্যা, সূরা বাইয়্যিনাহ শব্দ সংখ্যা, সূরা বাইয়্যিনাহ তাফসির, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা উচ্চারণ সহ, সূরা বাইয়্যিনাহ এর অনুবাদ, surah baiyinah, sura bayyinah, surah bayyinah ayat 5, surah bayyinah ayat 1, surah bayyinah ayat 6, surah bayyinah translation, surah bayyinah full, surah bayyinah bangla tafsir,سوره البينه,سورة البينه,سورة البينة مكتوبة, ৯৮ নং সূরা, সূরা বাইয়্যিনাহ,سورة البينة, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা অর্থ, সূরা বাইয়্যিনাহ ফজিলত, সূরা বাইয়্যিনাহ আয়াত ৭, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা উচ্চারণ, সূরা বাইয়্যিনাহ এর তাফসির, সূরা বাইয়্যিনাহ অর্থ, সূরা বাইয়্যিনাহ আয়াত ৬, সূরা বাইয়্যিনাহ এর শানে নুযুল, সূরা বাইয়্যিনাহ এর অক্ষর সংখ্যা, সূরা বাইয়্যিনাহ শব্দ সংখ্যা, সূরা বাইয়্যিনাহ তাফসির, সূরা বাইয়্যিনাহ বাংলা উচ্চারণ সহ, সূরা বাইয়্যিনাহ এর অনুবাদ, surah baiyinah, sura bayyinah, surah bayyinah ayat 5, surah bayyinah ayat 1, surah bayyinah ayat 6, surah bayyinah translation, surah bayyinah full, surah bayyinah bangla tafsir,سوره البينه,سورة البينه,سورة البينة مكتوبة, ৯৮ নং সূরা,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *