টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ,টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা,টাইফয়েড জ্বর কতদিন থাকে,টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার,টাইফয়েড জ্বর,টাইফয়েড জ্বর ভালো করার উপায়,টাইফয়েডের লক্ষণ,

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ

স্যালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণে টাইফয়েড জ্বর হয়ে থাকে। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে প্রধানত দেহে এই জীবাণু ছড়ায় এবং জ্বরসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। চলুন জেনে নিই টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণসমূহ

সাধারণত রোগ-জীবাণু শরীরে প্রবেশের (১০-১৪) দিন পর রোগের লক্ষণ সমূহ প্রকাশ পেতে থাকে। এই রোগের প্রধান লক্ষণ জ্বর যা প্রথম ৪ থেকে ৫ দিন বৃদ্ধি পায়। জ্বর কখনো বাড়ে, কখনো কমে; তবে কোনো সময়ের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে ছেড়ে যায় না। এর প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ নিচে দেওয়া হলো-

  • ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত টানা জ্বর হওয়া।
  • ক্ষুধামন্দা হওয়া সহ কারো আবার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে।
  • জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা,মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
  • শরির ম্যাজ ম্যাজ করা সহ রোগীর কফ বা কাশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে ।
  • কারো কারো জ্বরের সঙ্গে কাশি হয়।
  • প্রচণ্ড পেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • ২য় সপ্তাহে টাইফয়েড রোগীর পেটে এবং পিঠে গোলাপি রঙের দানা দেখা দিতে পারে।
  • ওষুধ চলা অবস্থায়ও ৭ দিনের মতো জ্বর থাকতে পারে।
  • জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা,মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
  • হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন কমে যেতে পারে।

কিভাবে টাইফয়েড জ্বর সনাক্তকরণ করা হয়?

পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কেবল চিকিৎসকগণ বলতে পারবেন যে কারও টাইফয়েড জ্বর হয়েছে কিনা। টাইফয়েড দ্রুত সনাক্ত করার জন্য ব্লাড কালচার নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। যদি নমুনায় স্যালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায় তাহলে প্রকার ভেদে টাইফয়েড ও প্যারা- টাইফয়েড পার্থক্য করা হয়। এছাড়া জ্বর হওয়ার ২য় সপ্তাহে “উইডাল টেস্ট” নামে এক ধরনের ননস্পেসিফিক ব্লাড টেস্ট করতে হয় যাতে টাইটার দেখে টাইফয়েড নির্ধারণ করা হয়। 

টাইফয়েডের ঝুঁকি কাদের বেশি?

যেকোন বয়সেই টাইফয়েড হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হবে এমন কোন কথা নাই কারণ দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে অনেক সময়ই জীবাণু দেহে সংক্রমণ করতে পারেনা। তবে কম রোগপ্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি যেমন এইচআইভি পজিটিভ ও এইডস রোগীরা সহজেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হতে পারে। যেসব এলাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি সেসব এলাকায় ভ্রমণ করলেও এই রোগের জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা পদ্ধতি

প্রধানত এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ডাক্তারগণ টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা করে থাকেন। নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক শুরুর পরও জ্বর কমতে পাঁচদিনও লেগে যেতে পারে। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও দ্রুত চিকিৎসা না করলে জ্বর সপ্তাহ বা মাসব্যাপী থাকতে পারে। এছাড়া রোগী অন্যান্য জটিলতায় ভুগতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে অধিক পরিমাণে তরল খাবার দেওয়া দরকার কারণ দীর্ঘস্থায়ী জ্বর এবং ডায়রিয়ার কারণে তাঁর শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন : ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে

তীব্র আকারে পানি শূন্যতা দেখা দিলে শিরাপথে ওষুধ প্রদানের মাধ্যমেও তরলজাতীয় খাবার প্রদান করা যেতে পারে। টাইফয়েডের রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর বেশি থাকলে পুরো শরীর ভেজা গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে হবে। অসুস্থতাকালীন সময়ে হারানো পুষ্টি পুনরুদ্ধারে উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর হাত পানি ও সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো যতদিন পর্যন্ত চিকিৎসক এন্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দিবেন ততদিন পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে হবে।

টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টাইফয়েড জ্বরের জন্য নির্ধারিত ভ্যাক্সিন (টিকা) গ্রহণ করা রোগটি থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায়। ইনজেকশন এবং মুখে খাওয়ার উভয় ধরনের ভ্যাক্সিন বাজারে পাওয়া যায়। ভ্যাক্সিন গ্রহণ করার ব্যাপারে চিকিৎসককের পরামর্শ নেওয়া দরকার। সব সময়  ভ্যাক্সিন ১০০% কার্যকর  হয়না তাই ভ্যাক্সিনের পাশাপাশি নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা দরকার।

  • ফলমূল, শাকসবজি এবং রান্নার বাসনপত্র সবসময় পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
  • খাবার প্রস্তত, গ্রহণ বা পরিবেশনের পূর্বে খুব ভালভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
  • ভালভাবে খাবার রান্না বা সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত।
  • রাস্তার পার্শ্বস্থ যেকোনো দোকানের খাবার গ্রহণ করা এবং পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • বরফ যদি পরিশোধিত বা ফুটানো পানি হতে তৈরি করা না হয়, তবে পানি বা অন্য কোন পানীয়তে সেই বরফ মিশিয়ে পান করা হতে বিরত থাকতে হবে।
  • ফুটানো পানি বা পরিশোধিত পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পানি যেন দূষিত হতে না পারে সে জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংরক্ষণকৃত পানি পান করা উচিত।
  • টয়লেট সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • রাস্তার পার্শ্বস্থ যেকোনো দোকানের খাবার গ্রহণ করা এবং পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর, খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করার পূর্বে, শিশুকে পরিষ্কার করার পূর্বে, নিজে খাওয়ার পূর্বে বা শিশুকে খাওয়ানোর পূর্বে সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাই টাইফয়েড থেকে বাঁচার মূলমন্ত্র। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তাদের প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় খেতে হয়। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পান এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সবসময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না ফলে টাইফয়েডে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই টাইফয়েড প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলে বাইরের খাবার খাওয়া এবং পানি পান করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। 

ট্যাগ : টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ,টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা,টাইফয়েড জ্বর কতদিন থাকে,টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার,টাইফয়েড জ্বর ভালো করার উপায়,টাইফয়েডের লক্ষণ,টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণসমূহ,টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা পদ্ধতি,টাইফয়েডের ঝুঁকি কাদের বেশি,টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে করণীয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *